Waters of Life

Biblical Studies in Multiple Languages

Search in "Bengali":
Home -- Bengali -- Romans - 053 (The Parable of the Potter and his Vessel)
This page in: -- Afrikaans -- Arabic -- Armenian -- Azeri -- BENGALI -- Bulgarian -- Cebuano -- Chinese -- English -- French -- Hebrew -- Hindi -- Indonesian -- Malayalam -- Polish -- Portuguese -- Russian -- Serbian -- Spanish? -- Turkish -- Urdu? -- Yiddish

Previous Lesson -- Next Lesson

রোমীয়দের - প্রভুই আমাদের ধার্মিকতা
রোমীয়দের কাছে হযরত পৌলের লেখা পত্রের ওপর পর্যালোচনা
দ্বিতীয় খণ্ড - খোদার বাছাই করা বংশ হযরত ইয়াকুবের সন্তানদের মন কঠিন করা সত্ত্বেও তাঁর ধার্মিকতা সম্পূর্ণ অনড়৷ (রোমীয় ৯:১ - ১১:৩৬)
৩. ইস্রায়েলের অধিকাংশ লোকজনও যদি খোদার বিরুদ্ধে চলে যায় তবুও খোদা থাকবেন ধার্মিক (রোমীয় ৯:৬-২৯)

গ) কুমার ও তার হাতে নির্মিত পাত্রের দৃষ্টান্ত ইহুদি ও মসিহিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (রোমীয় ৯:১৯-২৯)


রোমীয় ৯:১৯-২৯
১৯. হয়তো তোমাদের মধ্যে কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, তবে আল্লাহ মানুষের দোষ ধরেন কেন? কেউ কি আল্লাহর উদ্দেশ্যকে বাধা দিতে পারে? ২০. তার জবাবে আমি বলব যে, তুমি মানুষ; আল্লাহর কথার ওপর কথা বলবার তুমি তুমি কে? কোনো লোক যদি একটি জিনিস তৈরি করে তবে সেই তৈরি করা জিনিসটা কি তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারে, কেন আমাকে এই রকম তৈরি করলে? ২১. একই মাটি থেকে কি কুমারের ভিন্ন ভিন্ন রকমের পাত্র তৈরি করবার অধিকার নেই কোনটা সম্মানের কাজের জন্য বা কোনটা নীচু কাজের জন্য? ২২. ঠিক সেভাবে আল্লাহ তাঁর গজব ও কুদরত দেখাতে চেয়েছিলেন; তবুও যে লোকদের ওপরে তাঁর গজব নাজেল করবন, খুব ধৈর্যের সঙ্গে তিনি তাদের সহ্য করলেন৷ এই লোকদের একমাত্র পাওনা ছিল ধ্বংস৷ ২৩. আপবার তিনি তাঁর অশেষ মহিমার কথাও জানাতে চেয়েছিরেন৷ যারা তাঁর দয়ার পাত্র তাদের তিনি তাঁ মহিমা পাবার জন্য আগেই তৈরি করে রেখেছিলেন৷ ২৪. আমরাই সেই দয়ার পাত্র৷ তিনি আমাদের কেবল ইহুদিদের মধ্য থেকে ডাকেন নি, অ-ইহুদিদের মধ্য থেকে ডেকেছেন৷ ২৫. নবী হোসিয়ার কিতাবে আল্লাহ বলেছেন, যারা আমার নয় তাদের আমি আমার বান্দা বলে ডাকব, আর যাকে আমি মহ্বত করি নি তাকে আমি আমার প্রিয়া বলে ডাকব৷ ২৬. যে জায়গায় তাদের বলা হয়েছিল, তোমরা আমার বান্দা নও, সেখানে তাদের জীবন্ত আল্লাহর সন্তান বলে ডাকা হবে৷ ২৭. নবী ইশাইয়া ইসরাইল জাতির বিষয়ে বলেছিলেন, বনি-ইসরাইলরা যদিও সংখ্যায় সমুদ্র-পারের বালির মতো তবুও কেবল তার বিশেষ একটা অংশই উদ্ধার পাবে৷ ২৮. মাবুদ শীঘ্রই দুনিয়াকে তার পাওনা শাস্তি পুরোপুরিভাবে দেবে৷ ২৯. নবী ইশাইয়া আরো বলেছিলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি কিছু বংশধর আমাদের জন্য রেখে না যেতেন তবে আমাদের অবস্থা সাদুম ও আমুরা শহরের মতো হতো৷

মানুষের ইচ্ছা, গর্ব আর তার বিচারবোধ খোদার ইচ্ছা, কর্ম ও মনোনয়নের বিরুদ্ধে করে চালিত৷ অবাধ্য লোকজন পিপিলিকার মতো, যারা হাতিকে বলে 'তুমি কেন আমাকে পদদলিত করে যাও? (ইশাইয়া ৪৫:৯)

খোদাকে প্রশ্ন করার কোনো অধিকার মানুষের নেই অথবা তাঁর বিরুদ্ধে ক্রুদ্ধ হবার অধিকারও নেই, কেননা মানুষের জ্ঞানের সীমা ও তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত যা খোদার অসীম জ্ঞান, পবিত্রতা ও প্রেমের কাছে তুচ্ছমাত্র৷

যে যুগেই হোক না কেন, যেখানে ব্যক্তি ও জাতি খোদার বিরুদ্ধে হয়েছে পরিচালিত, তেমন সমাজে কেউ যখন খোদার ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করে তখন তাকে অন্ধভক্ত হিসেবেই ধন্যবাদের সাথে তাঁর কাছে অবনত থাকতে হবে৷ এ মাপের বিশ্বাসের ফলেই আমরা বুঝতে পারি, হিটলার যেমন ষাট লক্ষ ইহুদি গ্যাস চেম্বারে হত্যা করেছিল আর তাকে কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করার ছিল না অথবা হত্যাযজ্ঞ বন্ধের কোনো পদক্ষেপ নেয়ারও ছিল না৷ একইভাবে আমরা বুঝতে পারি স্টালিন জাতীয় 'করণের' সময় দুই কোটি কৃষক হত্যা করেছিল সকলের অজান্তে৷

খোদার বিচার বিশ্লেষণ করার জন্য পৌল এক্ষেত্রে একটি উপমা দাঁড় করালেন৷ মাটির একই পিন্ড দিয়ে কুমার সম্মানের ও অসম্মানের পাত্র তৈরি করতে পারে, অথবা বর্জ বহন করার জন্যও ঘৃণীত বস্তু প্রস্তুত করতে পারে (ইয়ারমিয়া ১৮:৪-৫)

এ গল্পটি দিয়ে পৌলের শিক্ষা আরও গভীরে নিয়ে গেলেন, আর খোদার ক্রোধের পাত্রের কথা বললেন, খোদা যা ধৈর্যসহ দীর্ঘদিন বহন করে আসছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তা ঢেলে দিলেন৷ পৌল আরও বলেছেন, পূর্ব থেকে তাঁর করুনার পাত্রের বিষয় পরিকল্পনা করে রেখেছেন, আর তা তাঁর গৌরবের জন্য ধরে রেখেছেন৷ সুতরাং তার করুনার পাত্র স্রষ্টার গৌরবের রাজ্য থেকে নেমে আসে আবার তথায় তা ফিরে যাবে৷

পৌল রহমত ভিন্ন কোনো দর্শণ শাস্ত্র দাঁড় করান নি, তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞান, বিশ্লেষণ করে তিনি প্রকাশ করেছেন, যারা খোদার গজবে পূর্ণ হয়ে চালিত হয় আর যারা খোদার রহমতের গৌরব বহন করে, তারা যে কেবল অইহুদিরাই হবে তা নয় বরং মনোনীত ইহুদিরাও তেমন ঘৃণিত ও আশির্বাদপ্রাপ্ত হয়ে থাকে৷ এ বিষয়টি আরও বিশদ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হোসেয় নবীর কাছে খোদার কালামের উল্লেখ করেছেন (২:২৩)৷ তিনি যারা তার নিজের লোক বা মনোনীত নয় তাদের দ্বারা তিনি তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটাবেন৷ হযরত পিতর তাঁর প্রথম পত্রে অইহুদি বিশ্বাসির উল্লেখ করেছেন 'কিন্তু তোমরা তো বাছাই করা বংশ হয়েছ; তোমাদের দিয়ে গড়া হয়েছে ইমামদের রাজ্য; তোমরা পবিত্র জাতি ও তাঁর নিজের বান্দা হয়েছ; যেন অন্ধকার থেকে যিনি তোমাদের তাঁর আশ্চর্য নূরের মধ্যে ডেকে এনেছেন তোমরা তাঁর গুণগান কর৷ এক সময় তোমরা আল্লাহর বান্দা ছিলে না, কিন্তু এখন হয়েছ; এক সময় তোমরা মমতা পাও নি, কিন্তু এখন পেয়েছ'(১ পিতর ২:৯-১০)৷

পৌলের বর্ণনা মোতাবেক এ উদ্দেশ্যটি হলো ঐশি বিষয়; যারা বাছাইকৃত নয় তাদের খোদা বাছাই করেন, ডাকদেন তাদের যারা খোদার সন্তান হবার জন্য অদ্যাবধি ডাক পায় নি (রোমীয় ৯:১৬, ১ইউহোন্না ৩:১-৩)৷ পৌল এক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করেছেন তথা তাদের বুঝাতে চেয়েছেন নবী ইশাইয়া মনে করেছিলেন অবাধ্য লোকদের দারুন বিপদের মধ্যে ঠেলে দিবে, আর তারা যদি তাদের একগুয়েমির মধ্যে চলতেই থাকে তবে তিনি তাদের ধ্বংস করে ফেলবেন, অথচ তিনি তার সন্তানগণ সমুদ্রের বালুকণার চেয়েও অগণিত সংখ্যক হবে তাদের এমন দোয়া করেছেন৷

জীবন্ত খোদা তাঁর অবাধ্য সন্তানদেরও যত্ন নিয়ে থাকেন৷ তাদের সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে তা নয়, অল্প সংখ্যক পবিত্র লোক স্বচ্ছ হয়ে ওঠবে, যাদের মধ্য দিয়ে খোদার ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবে (ইশাইয়া ১১:৫), আর মনোনীতদের কিয়দংশ সদোম ঘমোবার মতো হয়ে পড়বে, যারা হবে ধ্বংস প্রাপ্ত (ইশাইয়া ১:৯)৷

প্রেমের কারণে পৌল রোমে বসবাসকারী ইহুদিদের সুশিক্ষিত করে তুলতে চেয়েছিলেন, খোদার অধিকার রয়েছে অইহুদিদের মধ্যে যারা মনোনীত হয় নি তাদেরও নাজাত প্রদানের, তাদের পরিপূর্ণভাবে সুরক্ষা করা, আর যে বিশ্বাসি ইহুদিদের মন কঠিন তাদের ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত মন কঠিন করে রাখার৷ এ অভিজ্ঞতা তাত্তি্বক যুক্তিজালের মাধ্যমে হয়নি অর্জিত, কিন্তু পৌল নিজের আত্মায় তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, সেই সকল গর্বিত ইহুদিদের বিষয়ে যারা নিজেদের ধার্মিক মনে করে অহংকারে অন্ধ হয়ে পড়েছিল৷ তিনি তাদের অনুতাপের পথ খুঁজে ফিরছিলেন ও সুরক্ষার পথে চালাতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা মসিহকে প্রতিজ্ঞাত নাজাতদাতা হিসেবে বিশ্বাস করে যার হাতে রয়েছে নাজাত দেবার ক্ষমতা৷ কিন্তু অধিকাংশ ইহুদি মসিহকে প্রত্যাখ্যান করেছে এমনকি অদ্যাবধি তাকে প্রত্যাক্ষান করে চলছে৷

প্রার্থনা: হে বেহেশতি পিতা, আমাদের ভাসাভাসা জ্ঞান নিয়ে চলার জন্য ক্ষমা করো, তুমি আমাদের সাথে অসীম ধৈর্য নিয়ে চলছো তা বুঝবার ক্ষমতা আমাদের দাও৷ সুদীর্ঘ কাল ধরে তুমি আমাদের সাথে প্রেমের আচরণ করে আসছো, আর সে কারণেই আমরা না পাচ্ছি শাস্তি না হয়েছি ধ্বংস৷ সম্পূর্ণভাবে আমাদের স্নাতশুভ্র পুতপবিত্র করো, যেন ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার সাথে তোমার প্রেমের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারি, আর আনন্দের সাথে পাকরূহের পরিচালনা যেন মেনে নিতে পারি৷

প্রশ্ন:

৬১. খোদার গজবের পাত্র কারা আর তাদের অবাধ্যতার কারণ কি?
৬২. খোদার রহমতের পাত্রের উদ্দেশ্য কি, আর তাদের লক্ষ বিন্দুই বা কি?

www.Waters-of-Life.net

Page last modified on February 25, 2014, at 01:35 PM | powered by PmWiki (pmwiki-2.2.109)