Waters of Life

Biblical Studies in Multiple Languages

Search in "Bengali":
Home -- Bengali -- Romans - 009 (The Righteousness of God)
This page in: -- Afrikaans -- Arabic -- Armenian -- Azeri -- BENGALI -- Bulgarian -- Cebuano -- Chinese -- English -- French -- Hebrew -- Hindi -- Indonesian -- Malayalam -- Polish -- Portuguese -- Russian -- Serbian -- Spanish -- Turkish -- Urdu? -- Yiddish

Previous Lesson -- Next Lesson

রোমীয়দের - প্রভুই আমাদের ধার্মিকতা
রোমীয়দের কাছে হযরত পৌলের লেখা পত্রের ওপর পর্যালোচনা
উদ্বোধন: সম্ভাষণ ও খোদার শুকরীয়া খোদার 'ধার্মিকতার ওপর' গুরুত্বারোপ করাই হলো এই পত্রের প্রধান লক্ষ্যবিন্দু (রোমীয় ১:১-১৭)

গ) নিয়ত বিশ্বাসের ফলেই খোদার ধার্মিকতা আমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও বাস্তবায়িত হয়ে থাকে (রোমীয় ১:১৬-১৭)


রোমীয় ১:১৭
আল্লাহ কেমন করে মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করেন সেই কথা এই সুসংবাদের মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে৷ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল ঈমান আনবার মধ্য দিয়েই মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়৷ পাক-কিতাবে লেখা আছে, 'যাকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয় সে ঈমান আনবার মধ্য দিয়েই জীবন পাবে৷
'

ধর্মতত্ত্বে একটি উভয় সংকটের বিষয় রয়েছে আর তা হলো খোদার ধার্মিকতা৷ আমাদের ধর্ম যদি বাহ্যিক কোনো বিষয় হতো, তবে তেমন ক্ষেত্রে উভয় সংকটে কোনো সমস্যা ছিল না বা দেখা দিত না৷ যাহোক, আমরা যখন জানতে পেরেছি, খোদার পবিত্রতার প্রশ্নে প্রত্যেক পাপীকে কতল করতে হবে৷ কেননা খোদার সামনে একজনও ধার্মিক নেই৷ সেক্ষেত্রে আমরা শোকার্ত হতে বাধ্য, সকল গুনাহগার প্রাণ দিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে বাধ্য৷ তবে খোদা নিজে কেবল পূতপবিত্র ন্যায় বিচারকই নন, তিনি স্নেহশীল পিতাও বটে, যার মধ্যে রয়েছে মহব্বত, ভালো স্বভাব ও দীর্ঘসহিষ্ণুতা৷ তিনি গুনাহগারদের ধ্বংস না করে রক্ষা করবেন৷

খোদার পবিত্রতার কারণে তিনি যাকে খুশি ও যখন ইচ্ছা কাউকে পছন্দ মাফিক ক্ষমা করতে পারেন না, যদিও তাঁর ইচ্ছা সকলকে বেকসুর ক্ষমা করা, খোদার মহিমা তার সত্ত্বা প্রকাশ করে৷

এ সমস্যার সমাধানকল্পে তিনি খুঁজে নিলেন সঠিক বিকল্প ব্যবস্থা পাপের প্রায়শ্চিত্ত সাধনকারী কোরবানি যে কোরবানি গুনাহগারদের পক্ষে হয়েছে দান৷ খোদার পবিত্রতার যোগ্য কোনো প্রাণী কোরবানি বা মানুষের কোরবানি মর্যাদায় ও পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধকল্পে যথেষ্ট সমপর্যায়ের ছিল না বিধায় তিনি তাঁর পুত্রকে যুগ কলাপের অগ্রে বেছে নিয়েচিলেন, যেন সময়ের পূর্ণতা হলো তিনি মানবরূপ ধারণ করেন, এবং পাপীদের বিকল্প হিসেবে আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত সাধন করেন আর বিনিময়ে আমরা হতে পারি বেগুনাহ৷ তিনিই আমাদের নির্দোষ বলে সাব্যস্থ করেছেন৷ রোমীয় পত্রের বিষয় এ নয় যে আমরা আমাদের স্বধার্মিকতার জোরে নাজাত লাভ করেছি, খোদা নিজের ধার্মিকতার কারণেই আজ আমাদের ধার্মিক বলে গণ্য করে নিয়েছেন, পবিত্র ব্যক্তি পবিত্র জীবন যাপন করার জন্য কতইনা ব্যস্ত থাকবে৷ আমরা গুনাহগার সত্ত্বেও তিনি আমাদের করলেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ৷ এ চমত্‍কার নাজাতের সম্ভাবনা কেবল খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ৷

শরীয়তপন্থীগণ সলিবের বিরুদ্ধে খোদাদ্রোহী কথা বলে৷ তারা ফালতু কথা বলে, 'যদি সকলে মসিহের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের কারণে নাজাত পেয়ে যেত, তবে, আস আমরা অধিক পাপ কাজে লিপ্ত হই, কেননা সলিবে হত মসিহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমাদের বেগুনাহ বলে সাব্যস্থ করবেন'৷ পৌল তাদের ধিক্কার দিয়েছেন, আর সাক্ষ্যস্বরূপ বলেছেন, মসিহিয়াতের বিশ্বাস কেবলমাত্র বিশ্বাসের মধ্যেই সীমিত নয়, বরং সে বিশ্বাস পূতপবিত্র মসিহের সাথে নিয়ত জীবন যাপন করা৷ আমাদের দুর্বলতার মধ্যে খোদার শক্তি কাজ করে থাকে, আর তিনি তার ফল আমাদের জীবন দিয়ে উত্‍পাদন করেন৷ মসিহকে অনুসরণ করা যেন চেইনের সাথে তুল্য যারা প্রত্যেকটি কড়ি বিশ্বাস দিয়ে গড়া ও একই মাপের, যা পূর্ণ থাকে প্রেম ও মসিহের সাথে যিনি আমাদের ন্যয়বান, পবিত্র করণ এবং খাঁটি করে গড়ে তোলেন৷ আমরা আমাদের নাজাতদাতা নই, বরং আমরা আমাদের হৃদয় খোদার রহমতের কাছে উম্মুক্ত করে রেখেছি৷ যারা নাজাতপ্রাপ্ত তারা কেবল বিশ্বাসেই জীবন যাপন করেন৷ বিশ্বাস থেকে গভীর বিশ্বাসে উত্তীর্ণ হয় তারা, তারা নিজেদের কারণে নিজেরা ধার্মিক বনেছে এমন ভাবনা আর কখনোই ভাবে না৷ মসিহ তাদের ন্যায়বান বলে ঘোষণা দিয়েছেন, নিত্যদিন পূতপবিত্রভাবে জীবন রক্ষণাবেক্ষণ করে চলছেন, আর তা তাঁর পাকরূহের মাধ্যমে বিশ্বাসীদের জীবনে কর্মসাধন করে চলছেন৷ খোদা যেমন নিত্য ধার্মিক, তাই তিনি নিত্যদিন আমাদের ক্ষমা করেন এবং প্রতিটি মুহুর্ত পবিত্রভাবে জীবন যাপন করার জন্য পাকরূহের দ্বারা প্রেরণা ও পরিচালনা দিয়ে চলেন৷ আমরা তার নিজস্ব সম্পদ এবং তাঁর কাছে অতিপ্রিয় ও পবিত্র৷

নবীদের যুগে শরীয়তপন্থীদের আর একটি প্রশ্ন রয়েছে, যে প্রশ্নটি খোদার ধার্মিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে৷ ইহুদিগণ খোদার রহমতকে অগ্রাহ্য করে বসেছে৷ ইহুদিরা খোদার পুত্রকে সলিবে হত্যা করেছে৷ যার অর্থ হলো তাদের নাজাতের ব্যবস্থা খুইয়ে বসেছে৷ তাছাড়া তারা পাকরূহের বক্তব্যের বিরুধিতা করে আসছেন সদা-সর্বদা, পাকরূহই তো মানুষকে পাপের অনুশোচনা ও বিশ্বাসে বলিয়ান করে চলেন৷ এ অখন্ডনিয় সত্যের আলোকে পৌল এবং অন্যান্য সাহাবিগণ আশ্চর্যের সাথে প্রকাশ করেছেন, 'খোদা কতকাল ধার্মিক থাকবেন, যদি ইব্রাহিমের পরিবারকে তিনি বেছে নিয়ে থাকেন, এবং নিজেকে তাদের সাথে অনন্তকালের জন্য যুক্ত করে থাকেন? তথাপি বর্তমান কালে আমরা দেখতে পাই, খোদা তাদের কঠিন করে এবং প্রত্যাখ্যান করে তুলছেন, কেননা তারা পাকরূহের কাছে হৃদয় খুলে দিচ্ছে না৷ তাহলে খোদা কি ব্যর্থ হয়ে গেছেন? না, পৌল তার পত্রে এর জবাব দিয়েছেন, যেখানে তিনি প্রকাশিত কালামের জবাব দিয়েছেন (রোমীয় ৯-১১)৷ ইহুদিদের ন্যায়বান বলে ঘোষণা দেবার জন্য নয়, বরং খোদার ধার্মিকতার প্রতি গরুত্ব প্রদান করার জন্যই তিনি তা করেছেন গোটা জাতির প্রচারক অতীব আগ্রহী ছিলেন ধার্মিকতা, পবিত্রতা, ঐশি বিষয়ের যা পিতা খোদা ও প্রভু মসিহের ধার্মিকতা৷

যাদের প্রকৃত বিশ্বাস জন্মেছে, আর পাকরূহের নির্দেশনায় সমর্পিত হয়েছে তারাই হয়েছে মনের দিক দিয়ে নতুন সৃষ্টি, পবিত্রতার সাথে জীবন যাপন করা এবং নতুন চুক্তিতে হলো যোগ্য৷ মসিহি জীবন বিধান মানুষের শিক্ষাকলাপ ও মানুষের শক্তি বন্ধ করে না, বরং খোদার মহব্বত ও বাধ্যতার প্রবৃদ্ধি ঘটায়, আর যারা নাজাতের শক্তি খোদার পুত্রের ওপর বিশ্বাস রাখে তাদের সকলকে বহন করে৷ মসিহিদের আচরণ পিতার নামকে গৌরবোজ্জল করে৷ তার ধার্মিকতার প্রদর্শন-ই হলো রোমীয় পত্রের প্রধান বিষয়৷

প্রার্থনা: হে খোদা, পবিত্র তিত্ত্ব, আমরা আপনার আরাধনা করি, কেননা, তুমি আমাদের খাঁটি বিশ্বাসে উপনিত করেছো এবং সম্পূর্ণভাবে ধার্মিক বলে গণ্য করেছো, আর নিত্যদিন আমাদের পূতপবিত্র করে গড়ে তুলছো, নিয়ে চলছো তোমার কাছে৷ তুমিই ধার্মিক সত্ত্বা, তুমি নিয়ত ধার্মিক হিসেবে স্নাতশুভ্র করে চলছো, যদিও বিশ্বের ইতিহাসে মানুষের আচরণ বুঝতে আমাদের সমস্যা হয়৷ আমাদের সম্পূর্ণ ধৌত করো, আর আমাদের চরিত্রে অবশিষ্ট পাপ কালিমা ধৌত কর, যেন আমরা গোটা জাতির মধ্যে মিষ্টি সুঘ্রাণে পরিণত হতে পারি৷

প্রশ্ন:

১৩. কি করে খোদার ধার্মিকতা আমাদের বিশ্বাসের সাথে যুক্ত হতে পারে৷

www.Waters-of-Life.net

Page last modified on February 25, 2014, at 12:24 PM | powered by PmWiki (pmwiki-2.2.109)