Waters of Life

Biblical Studies in Multiple Languages

Search in "Bengali":
Home -- Bengali -- Romans - 071 (Problems of the Church of Rome)
This page in: -- Afrikaans -- Arabic -- Armenian -- Azeri -- BENGALI -- Bulgarian -- Cebuano -- Chinese -- English -- French -- Hebrew -- Hindi -- Indonesian -- Malayalam -- Polish -- Portuguese -- Russian -- Serbian -- Spanish? -- Turkish -- Urdu? -- Yiddish

Previous Lesson -- Next Lesson

রোমীয়দের - প্রভুই আমাদের ধার্মিকতা
রোমীয়দের কাছে হযরত পৌলের লেখা পত্রের ওপর পর্যালোচনা
তৃতীয় পার্ট - খোদার ধার্মিকতা মসিহের সাহাবীদের জীবনাচরণের মধ্য দিয়ে প্রতিভাত হয়েছে৷ (রোমীয় ১২:১ - ১৫:১৩)

৮. রোমের জামাতের বিশেষ সমস্যা (রোমীয় ১৪:১-১২)


রোমীয় ১৪:১-১২
১. ঈমানে যে দুর্বল তাকে আপন করে নাও; তার মতামত নিয়ে তার সঙ্গে তর্কাতর্কি কোরো না৷ ২. কেউ মনে করে সে সব কিছুই খেতে পারে, কিন্তু যে ঈমানে দুর্বল সে কেবল শাক-শবজীউ খায়৷ ৩. আমিষ-ভোজী যেন নিরামিষভোজীকে তুচ্ছ না করে এবং নিরামিষভোজী যেন আমিষভোজীর দোষ না ধরে, কারণ আলস্নাহ তো সেই দু'জনকেই আপন করে নিয়েছেন৷ ৪. তুমি কে, যে অন্যের চাকরের বিচার কর? সে দাঁড়িয়ে আছে, না পড়ে গেছে, তা তার মালিকই বুঝবেন৷ কিন্তু সে দাঁড়িয়েই থাকবে, কারণ প্রভুই তাকে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারেন৷ ৫. কারও কাছে কোনো একটা দিন অন্য একটা দিনের চেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ৷ আবার কেউ সব দিনকেই সমান মনে করে৷ এই ব্যাপারে কে কি করবে না করবে, তাতে যেন তার মন পুরোপুরিভাবে সায় দেয়৷ ৬. বিশেষ কোন একটা দিন যে পালন করে সে তো প্রভুকে খুশী করবার জন্যই তা করে৷ যে সব কিছু খায় সে প্রভুকে খুশী করবার জন্যই খায়, কারণ সে আলস্নাহকে শুকরিয়া জানায়৷ যে সব কিছু খায় না সে প্রভুকে খুশী করবার জন্যই খায় না, আর সেও আলস্নাহ শুকরিয়া জানায়৷ ৭. আমাদের মধ্যে কেউই নিজের জন্য বেঁচে থাকে না এবং কেউই নিজের জন্য মরে না৷ ৮. আমরা যদি বাঁচি তবে প্রভুর জন্যই বেঁচে থাকি, আর যদি মরি তবে প্রভুর জন্যই মরি৷ তাহলে আমরা বাঁচি বা মরি আমরা প্রভুরই৷ ৯. মসিহ মরেছিলেন এবং আবার জীবিতও হয়েছিলেন যেন তিনি জীবিত ও মৃত এই দু'য়েরই প্রভু হতে পারেন৷ ১০. তাহলে কেন তুমি তোমার ভাইয়ের দোষ ধরছ? আর কেনই বা তোমার ভাইকে তুচ্ছ করছ? বিচারের জন্য আমরা সবাই তো আলস্নাহর সামনে দাঁড়াব৷ ১১. পাক-কিতাবে লেখা আছে, 'মাবুদ বলেন, 'আমি আমার নাম করে বলছি, আমার সামনে প্রত্যেকেই হাঁটু পাতবে এবং আমাকে আলস্নাহ বলে স্বীকার করবে৷' ১২. তাহলে দেখা যায়, আমাদের প্রত্যেককেই নিজের বিষয়ে আলস্নাহর কাছে হিসাব দিতে হবে৷

নিষিদ্ধ বিষয়ের ওপরে মসিহিদের মধ্যে নানা মত সৃষ্টি হয়েছিল, কোনটি আদিষ্ট আর কোনটি নিষিদ্ধ এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির কারণ হলো মসিহ এ বিষয়ে কোনো রূপরেখা নীতিনির্ধারনি দিয়ে যান নি বিধায়; কিন্তু তিনি আমাদের পুর্ণাঙ্গ নাজাত দান করে গেছেন, ধার্মিক বলে গণ্য করেছেন আর পাকরূহের পরাক্রম যুগিয়েছেন৷ তাঁর প্রয়োজন ছিল এমন একটা নিয়মের যার ফলে সকলকে প্রাণ খুলে প্রেম করা চলে৷

এ কারণেই আজকে বিভিন্ন বিষয়ে এক জামাত থেকে অন্য জামাতের মতবিরোধ চলে আসছে৷ কেউ মনে করে, শুকরের মাংস ভক্ষণ করা পাপের কারণ কিন্তু মসিহ বলেছেন, মুখ দিয়ে যা কিছু ভিতরে প্রবেশ করে তাতে মানুষ কলুষিত হয় না, কিন্তু মুখ থেকে যা কিছু বেরিয়ে আসে, তাই মানুষকে নাপাক করে৷ কেননা হৃদয় থেকে মন্দ চিনত্মা, খুন-রাহাজানি, ব্যাস্যাগামিতা-ব্যভিচার, জেনা, চৌর্যবৃত্তি, মিথ্যা সাক্ষ্য ও খোদার নিন্দা মূলক কথা বেরিয়ে আসে আর ঐ সকল বিষয়ই মানুষকে নাপাক করে তোলে৷ অবশ্যই শুকরের মাংস মানুষের ক্ষতি করে আর স্বাস্থের অসুবিধা জন্মায়, তবে রম্নহানিভাবে তা ব্যক্তিকে নাপাক করতে পারে না৷

কোনো কোনো মসিহি হুক্কা বা সিকাটের পান করে, অন্যদিকে কেউ বা ধুমপানকে মৃতু্যদায়ী পাপ বলে গণ্য করে৷ অবশ্যই ধুমপান ব্যক্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রসত্ম করে, আর যারা তার চারপাশে থাকে তাদেরও ক্ষতি হয়, কিন্তু ধুম্র যা ধুমপায়ী ভিতরে টেনে নেয় তা মন্দ আত্মা নয়, তা হলো ক্ষতিকারক বিষ, যা তার স্বাস্থ রৰার কারণে পরিত্যাগ করা উচিত্‍৷ তাই ধুমপান পাপ হতে পারে না, তবে ধুমপায়ী আর দশ জনের মতোই গুনাহগার৷

কেউবা মাদকদ্রব্য সেবন করা নিষিদ্ধ মনে করেন, অবশ্য তেমন মনে করাটাই সঠিক, কেননা যে কেউ নিজেকে মাদকাশক্ত করে নিয়েছে সেই ড্রাগ ও মদের কাছে আসক্ত ও পরাভুত হয়ে পড়েছে৷ তাই আমরা সকলকে পরামর্শ দেই মদ ও ড্রাগ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করে চলার জন্য৷ ঔষধের মতো করে অল্পস্বল্প মদ পান করাতে অতোটা ক্ষতিকারক নয়৷ তথাপি, স্মরণ করাতে চাই, বিশুদ্ধ তাজা পানি স্বাস্থ্য সম্মত পানীয় যা খোদা নিজেই দান করেছেন৷

পৌলের সময়কালে জামাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুবিদিত প্রশ্ন ছিল; 'প্রতিমার নামে উত্‍সর্গীকৃত কোনো পশুর মাংস খাওয়া দুরসত্ম হবে কি?' অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে অনেকে তেমন মাংস ভক্ষণ করতো, অন্যরা বিরক্তির চোখে তা দেখতো৷ পৌল দেখেছিলেন, উভয় দলই সঠিক, কারণ যে পশুটি দেবতার সম্মুখে উত্‍সর্গ করা হয়েছে তা তো কেবল পশুই রয়ে গেছে, আত্মায় রূপ নিতে পারে নি৷ তিনি তা বলেছেন অনেকের ভুল ধারণা ভেঙ্গে দেবার জন্য যা ছিল দেবতার সামনে উত্‍সর্গীকৃত পশু দেবতার দ্বারা প্রভাবিত হয় যা ঠিক নয়৷ যা হোক, মসিহ সকলকে নাজাতের মধ্যে নিয়ে এসেছেন৷ তারা আর শরীয়তের অধিন নয়, কিন্তু তারা অবমুক্ত অপ্রধান নিরর্থক কানুন থেকে৷

যেমন কতিপয় মসিহি বিশ্রামবার পালন করে; কেউ পালন করে শুক্রবার আর অন্যরা রবিবার, তাদের লক্ষ্য করে পৌল বলেছেন; তোমরা সকলে ঠিক আছো, কেননা মসিহ কোনো দিনকে পবিত্র করেন নি, তিনি পবিত্র করেছেন মানুষ৷ তাই প্রত্যেকদিন তোমরা খোদার আরাধনা করার অধিকার রাখো, প্রত্যেক মুহুর্তে, কেননা আরাধনা কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণের দ্বারা বন্দি করে রাখা হয় নি, অথবা বিশেষ কোনো ঘন্টায় তা সীমিত নয় বরং ব্যক্তির সুবিধার জন্য সার্বক্ষণিক সুযোগ রয়েছে ভক্তের জন্য প্রার্থনা করার৷

কোনো অবস্থায় জামাতের সদস্যদের জন্য একে অন্যকে ঘৃণা করা চলবে না, অথবা ভাসাভাসা জ্ঞানে কেউ কাউকে বিচার করার অধিকার রাখে না, বিশেষ করে গৌণ বিষয় নিয়ে৷ মসিহ বলেছেন, 'বিচার করো না, যেন তুমি নিজে বিচারিত না হও'৷ তাই যে কেউ বিশ্বাসে পরিপক্ক তার উচিত হবে না বিশ্বাসে দুর্বল ব্যক্তিকে ঘৃণা করা বা হতভম্ভ করে দেয়া, তার উচিত হবে সকলের প্রতি প্রেমের কারণে বিচার করার মনোভাব থেকে নিজেকে বিরত রাখা৷ দুর্বলদের সাথে তার আলোচনায় বসা উচিত, তাদেরকে উত্‍সাহ দান করতে হবে, আর সাহায্য করতে হবে৷ এভাবেই দুর্বলদেরও উচিত হবে না পরিপক্ক ঈমানদারদের ঘৃণা করা অথবা তাদের বিষয়ে কটু কথা বলা, তাদের প্রেম করতে হবে, কেননা মসিহ সকলকেই মহব্বত করেন৷

পৌল সকলকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, আমরা আর আমাদের অধিকারে নেই, বরং সম্পূর্ণভাবে ও চিরকালের জন্য মসিহের হাতে নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছি৷ আমরা যদি বাঁচি, তবে প্রভুতেই বাঁচব, আর যদি মারা যাই, তবে প্রভুতেই আমরা মারা যাব৷ সুতরাং আমরা বাঁচি বা মরি, আমরা খাওয়া-দাওয়া পানাহার করি না কেন, আমরা প্রভুর সম্পদ, যিনি তার নতুন জীবন আমাদের মধ্যে বসবাসের জন্য প্রেরণ করেছেন৷

দোষারোপ করার মনোভাব জামাতের মধ্যে যেমন দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়ে, তাই পৌল দুর্বল সবল সকলকে সাবধান করে দিয়েছেন এ বলে; সাবধান, তোমরা সকলেই অননত্মকালীন বিচারকের সম্মুখে দাড়াতে বাধ্য৷ অন্যের বিচার করে বেরিওনা বরং নিজের বিচার করো৷ তোমাদের পাপ স্বীকার করো, আর উক্ত পাপরাজি মসিহের নামে জয় করো৷ তোমরা যদি মনে করো অন্যের পাপ ক্ষমা করা উচিত্‍ তবে প্রেম ও ধৈর্যের সাথে তার সাথে আলাপ করো, আর এ সকল উদ্যোগ যেন প্রার্থনার দ্বারা সঞ্জীবিত করা হয়, আর সদা মনে রাখবে, অন্যের চেয়ে অধিক ধার্মিক নও তুমি৷ যে কোনো প্রচেষ্টাই হাতে নেও না কেন, বিশ্বাসীদের বিশ্বাসে যেন কোনো আঘাত না লাগে৷

প্রার্থনা: হে বেহেশতি পিতা, তোমার পবিত্রতা ও অসীম মহান প্রেমের দ্বারা যখন আমরা নিজেদের মুল্যায়ন করি, দেখতে পাই সম্মান, ধার্মিকতা অথবা কদর পাবার কিছুই অবশিষ্ট নেই আমাদের মধ্যে৷ আমাদের পাপ অপরাধ ক্ষমা করো আর আমাদের সাহায্য করো অন্যকে দোষারোপ করার হাত থেকে নিজেদের বিরত থাকতে৷ আমাদের প্রেম জোরালো ও শক্তিধর করো যেন সকলকে প্রেম করতে পারি এবং নিজেদের যেন সামান্য ভাবতে পারি৷

প্রশ্ন:

৮৯. জীবনের গৌণ বিষয়ে যদি কেউ ভিন্নমত পোষণ করে তবে তেমন ক্ষেত্রে আমাদের কি বলা উচিত্‍ অথবা কি চিনত্মা করা উচিত্‍?

www.Waters-of-Life.net

Page last modified on February 25, 2014, at 01:55 PM | powered by PmWiki (pmwiki-2.2.109)