Waters of Life

Biblical Studies in Multiple Languages

Search in "Bengali":
Home -- Bengali -- The Ten Commandments -- 02 Introduction To the Ten Commandments: God Reveals Himself
This page in: -- Afrikaans -- Arabic -- Armenian -- Azeri -- BENGALI -- Bulgarian -- Cebuano -- Chinese -- English -- Farsi -- Finnish? -- French -- German -- Gujarati -- Hebrew -- Hindi -- Hungarian? -- Indonesian -- Kiswahili -- Malayalam -- Norwegian -- Polish -- Russian -- Serbian -- Spanish -- Tamil -- Turkish -- Ukrainian -- Urdu? -- Uzbek -- Yiddish -- Yoruba
ব্যাখ্যা ৬: দশ আজ্ঞা - মানুষকে অপরাধের কবল থেকে রক্ষা করার প্রতিরক্ষা কবজ সম দেয়াল৷ প্রথম খন্ড
সুসমাচারের আলোকে হিজরত পুস্তকের ২০ অধ্যায়ে বর্ণীত দশ শরীয়তের ব্যাখ্যা

০২ - 'দশ আজ্ঞা' পরিচিতি: খোদা নিজেকে প্রকাশ করলেন



হিজরত ২০:২
'হে বণি-ইসরাইল আমিই আল্লাহ তোমাদের মাবুদ, মিশর দেশের গোলামীগৃহ থেকে আমিই তোমাদের বের করে এনেছি৷'

'দশ আজ্ঞা' সরকারী আইন কানুনের মতো কারো উপরে নিয়মরীতি চাপিয়ে দেয় না, কোনো কঠিন মতবাদ যা মানুষকে পিষ্ট করে 'দশ আজ্ঞা' তেমন কোনো প্রশাসনিক বিষয় নয় যা ফেরেশতা কর্তৃক আদিষ্ট৷ বরং খোদা যেন মানুষের সাথে কথা বলেছেন এ আজ্ঞা সমূহের মাধ্যমে৷ স্রষ্টা নিজে তার সৃষ্টির অতি কাছে নেমে আসলেন, পূতপবিত্র ব্যক্তি গুনাহগারদের কাছে এগিয়ে গেলেন৷


০২.১ - খোদার ব্যক্তিসত্ত্বা

দশ আজ্ঞার সর্বপ্রথম শব্দ হলো 'আমি'৷ জীবন্ত খোদা ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সাথে কথা বলছেন, কোনো অজানা অচেনা ভীতিকারক মেঘগর্জনের নিরর্থক আওয়াজে কথা বলেন নি৷ তাঁর বক্তব্য অনুধাবন করা খুবই সহজ৷ তিনি আমাদের সাথে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করতে চাচ্ছেন৷ তাঁর করুনার মাধ্যমে আমাদের সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলেন, গজবের মাধ্যমে নয়৷ তিনি দয়া ও মহব্বতের আবেশে আমাদের সাথে যুক্ত থাকেন, আমাদের প্রতি নজর রাখেন৷

গোয়ার্তুমির কারণে সর্বশক্তিমান মাবুদের কাছ থেকে মানুষ ভেগে যায়, অস্বীকার করে তাঁর আশিষধারার প্রাচুর্যতা৷ তথাপি পূতপবিত্র মাবুদে আমাদের দিকে নজর রাখেন, পতনের যে স্তরেই যাই না কেন৷ আমরা সদা সর্বদা তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকি৷ সে কারণেই প্রত্যেক জ্ঞানি ব্যক্তি তাঁর বাক্যে মনোযোগ দিয়ে থাকেন৷ বাস্তবতা হলো তিনি বলেছেন, 'আমি' যার অর্থ হলো, আমরা 'তুমি' পর্যায়ে উনি্নত হতে পেরেছি৷ এবং ফলে আমরা উভয়ই আলাপ-আলোচনা করতে পারি একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি নিয়ে৷

এ প্রসঙ্গে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে অনন্তকাল স্থায়ী মাবুদ নিজেই হলেন আমাদের পালক, অন্নদাতা, চিরস্থায়ী বিচারক, একক ব্যক্তি হিসেবে আমাদের কাছে হয়েছেন হাজির৷ তাই আসুন মনোযোগ দিয়ে তার কালাম শুনি এবং তাঁর বাক্য আনন্দের সাথে গ্রহণ করি৷


০২.২ - খোদার অস্তিত্ত্ব

খোদা যখন বললেন 'আমি আছি' তার অর্থ খোদার মৌল সত্তার বিষয়ে তিনি প্রকাশ করলেন৷ তাহলে মানুষ কেমন করে দাবি করে যে খোদা বলতে কিছুই নেই? অবিশ্বাসীদের সর্বপ্রকার যুক্তিজাল মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়ে যায়, যখন 'আমি আছি' এর কারণে আমাদের অস্তিত্ত্ব দাঁড়িয়ে থাকে৷ খোদা আছেন, সবকিছু অনিত্য কেবল তিনিই নিত্য অনন্ত৷ বার বার মানুষ খোদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আসছে, তাদের বিদ্রোহ দেখে মনে হয় শক্তিশালী পর্বতমালার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে৷ মানুষ খোদার বিষয়ে যা প্রকাশ করে অথবা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে যা পেয়েছে তার উপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় নি৷ মাবুদ নিজেই সত্য এবং তিনিই গোটা বিশ্ব ভরে রেখেছেন৷ খোদার অস্তিত্ত্বে কতিপয় ব্যক্তি আজ থেকে ৩০০০ বত্‍সর পূর্বে অস্বীকার করেছিল, দায়ুদ নবীর সময়ে তারা দাবি তুলেছিল এ বলে যে খোদার অস্তিত্ত্ব বলতে কিছুই নেই (যবুর ১৪)৷ তাই যবুরের লেখক তাদের বিগড়ে যাওয়া ব্যক্তি ও দল হিসেবে তাদের বোকা বলে আখ্যায়িত করেছেন (আল যবুর ১৪:১)

বৌব্ধদের যেভাবে ধমর্ীয় মতবাদের ভিত্তি প্রকাশ করেছেন তা খোদার নিজের বিষয়ে বর্ণনায় খন্ডিত হয়ে গেছে৷ 'নির্ভান' যে শিক্ষাটা তিনি প্রকাশ করেছেন তা মৃতু্যর উপর ভিত্তি করে আর যার অর্থ মৃতু্যই করে দেয় সবকিছুর অর্থাত্‍ আত্মার অস্তিত্ত্বের শেষ, যা আদৌ সত্য নয়৷ খোদা চাচ্ছেন মানুষ বেঁচে থাক৷ তিনি জীবন্ত এবং সাক্ষ্য দিচ্ছেন, 'আমি আছি'৷ বাস্তবতা হলো, তিনি বেঁচে আছেন এবং অন্তরীক্ষ থেকে আমাদের জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য জ্ঞাপন করছেন৷ তিনি যেভাবে বেঁচে আছেন, আমরাও যেন তেমনিভাবে বেঁচে থাকি তাই তাঁর ইচ্ছা৷ আমাদের জন্য নির্ধারিত লক্ষবিন্দু যাতে নিভে না যায় তাই তিনি চান৷

খোদার সাক্ষ্যের ফলে জড়বাদি বা বস্তুগত মতবাদের মৃতু্য ঘটেছে৷ যাদের দৃষ্টি ভঙ্গি ক্ষীণ, কেবল তারাই রুহানি জগতের বিষয় বা অস্তিত্ত্বের কথা অস্বীকার করে৷ দৃষ্টান্ত স্বরূপ তিনি যেন একটা পাথরখন্ড যা নড়াচড়া করতে পারে না, আর আকাশে পাখীরা উড়ে বেড়াচ্ছে মনের ইচ্ছায়৷ খোদা জীবন্ত, তিনি আপনাদের সাথে নিয়ত কথা বলে চলছেন৷ তিনি কথা বলছেন বস্তুবাদীদের সাথে, অবিশ্বাসীদের সাথে, কমুনিষ্টদের সাথে, সবার সাথে যাতে তাঁরা খোদার কথায় কর্ণপাত করে, বিবেচনা করে ফিরে আসে তাঁর পথে যা হবে তাদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ সিদ্ধান্ত৷ যদি কেউ মাবুদের কথায় মনোযোগ দিতে অস্বীকার করে, হৃদয় করে রাখে কঠিন, তাকে তুলনা করা যেতে পারে অন্ধের সাথে, যে কিনা বলে সূর্যের অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই, কেননা তা থাকলে সে দেখতে পেতো৷


০২.৩ - কে এই সর্বশক্তিমান?

খোদা মুসা নবীকে বললেন, 'আমিই প্রভু'৷ আমি যেই আছি সেই আছি, কথাটা ইহুদি মূল ভাষার শব্দ থেকে আক্ষরিক অনুবাদ (যাত্রা ৩ ঃ ১৪)৷ এর দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে খোদার অনন্তকালীন, স্বাধীন সার্বভৌম নিঃসর্ত বাস্তব অস্তিত্ত্বের কথা, আর কারো পক্ষে যেভাবে অস্তিত্বমান থাকা সম্ভব নয়৷ তিনি অপরিবর্তনশীল আর এই স্থায়ীত্বই হলো আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি, ভিত্তি আমাদের নাজাত লাভের৷ আমাদের পাপাচারিতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অপরিবর্তনীয় মাবুদ সদাসর্বদা আমাদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন৷ তাঁর বিশ্বস্ততার খাতিরেই আমরা সর্বদা তাঁর কাছে ফিরে আসতে পারি৷ এ অধিকার তিনি আমাদের দিয়েছেন৷ বিশ্বের সমস্ত সম্ভাবনার শেষ প্রান্তে হাজির হলেও তিনি আমাদের সান্তনা দেন এই বলে 'আসমান জমীন শেষ হবে, কিন্তু আমার কথা চিরকাল থাকবে (মথি ২৪:৩৫)৷

খোদা তাঁর সার্বভৌমত্ব দিয়ে সবকিছু বেষ্টন করে রেখেছেন৷ তিনি সবজান্তা, সর্বদর্শী, সর্বজ্ঞানী মাবুদ৷ সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি আমাদের জন্য পথ খুলে দেন৷ তিনি আমাদের অনুভুতি ও চিন্তার বিষয় বুঝতে পারেন৷ ভয়ে আধমরা হয়ে তাঁর পাদপ্রান্তে লুটে পড়বে তা তিনি চাচ্ছেন না বরং পরিবর্তে তিনি আমাদের হৃদয়ে গভীর প্রত্যাশা এবং নির্ভরতা উত্‍পন্ন করে থাকেন৷ তিনি আমাদের সাথে কথা বলেন, তার অর্থ আমরা যেন প্রত্যায় জেগে উঠি এবং তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করি৷ আমাদের জীবনের মালিক হতে চান তিনি৷ আমাদের ধৈর্যশীল মাবুদের কাছ থেকে কেউই নিজেদের মুখ লুকাবেন না, কেননা তিনি আমাদের জবাবের অপেক্ষাতে আছেন৷ কেউ যখন শ্রষ্টা মাবুদের দিকে ফিরে আসে তিনি তখন করুণার ধারায় মহব্বতের আবেশে সাড়া দেন৷ খোদা যখন বলেন, 'আমিই প্রভু' তার অর্থ এও সত্য যে তিনিই কেবলমাত্র প্রভু, তাকে ছাড়া আর কেউ নেই৷ তাকে ছাড়া বাকি সবই নিরর্থক মাত্র৷

বর্তমান যুগে রুহানি ও নিগূঢ় বিষয়ক শিক্ষাক্রম দিয়ে মানুষকে করা হচ্ছে পরিচালনা, সেখানেও শয়তানের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ ফিরে আসছে প্রকৃত খোদার কাছে৷ আজকে অজ্ঞেয়বাদের বিলোপ ঘটছে৷ তবে মানুষ ঝুকে পড়ছে অকাল্ট বা গুপ্ত রহস্য উম্মোচন করার প্রক্রিয়ায়, ফলে মন্দ আত্মার বসে হয়ে পড়ছে আবদ্ধ৷ তারা নিজেদের ফলাও করে প্রচার করে চলছে সর্বত্র যেমন রেডিও, টেলিভিশন এবং দৈনিক পত্রিকাগুলোতে৷

সুসমাচার সমূহে মসিহ বলেছেন, 'আমিই তিনি' যার অর্থ দাঁড়ায় 'দশ আজ্ঞার' সাথে তিনি অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ এ কথা প্রকাশ করার ফলে তিনি যে প্রভু তাও স্বীকার করেছেন, আর ফেরেশতাগণ বেথেলহেমের মাঠের রাখালদের কাছে সুখবর প্রচার করেছিলেন তাও তাকেই কেন্দ্র করে প্রচারিত হয়েছিল৷ মসিহ আরও বলেছেন, 'আমিই জীবন রুটি', 'আমি জগতের আলো', 'আমিই একমাত্র দরজা', আমিই পথ সত্য ও জীবন৷ মসিহ আরও দাবি সহকারে বলেছেন, 'আমি রাজা', আমিই প্রথম ও শেষ' তাঁর সাহাবিগণও নির্দ্বিধায় ঘোষণা করেছেন, সাখ্য দিয়েছেন, 'মসিহ হলেন প্রভু' তিনি কখনোই পরিবতর্ীত হন না, তিনি আমাদের সর্বপ্রকার পাপ অপরাধ থেকে রক্ষা করেন৷ তাঁর প্রাধিকার ও মর্যাদা মৃতু্য থেকে পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন৷ তখন থেকে 'দশ আজ্ঞা' আমাদের কাছে পরম সান্ত্বনার বাণী হয়ে ধরা দেয় যা হলো, 'আমি প্রভু'৷

মানবরুপে প্রভু যে ধরা পৃষ্টে আবিভর্ূত হবেন সে বিষয়ে মুসা নবীর কোনো ধারণা ছিল না৷ ঈসা মসিহের মানবরূপে আবিভর্ূত হবার এক হাজার তিনশত পঞ্চাশ বত্‍সর পূর্বে মুসা নবী মৌলিক বিষয় সম্বন্ধে জানতে পেরেছিলেন, যা হলো, আমিই প্রভু তোমার খোদা'৷


০২.৪ - খোদার পরিচয়

ইব্রানী ভাষায় খোদা নিজেকে 'এলোহিম' সর্বশক্তিমান বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হলে তা হবে 'আল্লাহ'৷ এলোহিম বানান এভাবে হতে পারে 'এলোহ্-হিম' যার অর্থ দাঁড়ায় 'আল-এল-হু'৷ 'আল' হলো নির্দিষ্ট করন শব্দ যার অর্থ ইংরেজিতে (ঞযব) বা নির্দিষ্ট করে বলা৷ আর খোদার আসল নাম হলো 'এল' সেমেটিক কৃষ্টিতে প্রয়োগ হতো, যার অর্থ 'শক্তি'৷ মসিহ উক্ত নামের মূল অর্থ প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালতে জেরার সময়৷ তিনি বলেছেন, 'এর পরে মনুষ্যপুত্রকে সর্বশক্তিমানের ডানপাশ্বর্ে সমাসীন দেখতে পাবে৷' (মথি ২৬:৬৪) 'ইম' এবং 'হু' হলো প্রত্যয় যুক্ত শব্দ৷ ইব্রানি 'ইম' প্রকাশ করে 'বহুবচন' আর 'হু' আরবি ভাষায় সম্পূর্ণ এক বচন প্রকাশ করে থাকে৷ ত্রিত্তপাকের মাঝে আল্লাহ এক এ বিষয়ের সম্ভাব্যতা আরবি ভাষায় 'আল্লাহ' শব্দ থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু 'এলোহিম' শব্দে ত্রিত্তপাকের অস্তিত্ত্ব খুঁজে পাওয়া যায়৷

অনন্তকালীন মাবুদ যে কেবলমাত্র সর্ববিষয়ে সুপরিজ্ঞাত তাই নয়, তিনি সর্বজ্ঞানি, সর্বত্র বিরাজমান, এবং তিনি সর্বশক্তিমানও বটে৷ গোটা বিশ্বে তিনিই একমাত্র শক্তি, যিনি সৃষ্টি করেন, গঠন দেন কেবল তাঁর পরক্রমি বাক্য দিয়ে, শূন্য থেকেই গোটা বিশ্ব তিনি সৃষ্টি করেছেন৷ সকলের ক্ষেত্রেই তিনি অসীম ধৈর্যশীল৷ আমাদের প্রভু ধ্বংসাত্মক প্রভু নন, নন তিনি স্বেচ্ছাচারি রাজা, যাকে খুশি সত্য পথে পরিচালনা করেন, আবার যাকে খুশি ধ্বংস করেন নিজের খেয়াল খুশি মতো৷ (সুরা আল ফাতির ৩৫:৮) আল মুদাচ্ছির (৭৪:৩১)৷ বিপরিত পক্ষে আমাদের খোদা চাচ্ছেন, 'তিনি চান যেন সকলেই নাজাত পায় এবং মসিহের বিষয়ে সত্যকে গভীরভাবে বুঝতে পারে' (১ তীমথিয় ২:৪)৷

কিতাবুল মোকাদ্দসে নবীদের গ্রন্থে দেখা যায় লোকদের নাম এবং দেশের নামের সাথে এল শব্দ যোগ দেয়া হতো৷ তাদের সন্তানদের নামে এল যোগ দেয়া হতো, যেমন 'শমুয়েল' 'এলিশা' 'এলিয়ার' এবং 'দানিয়েল'৷ তারা তাদের শহরের নাম ওভাবে রাখতো, যেমন 'বেথেল' জেজরিল এবং ইস্রায়েল' এ সকল করার পিছনে উদ্দেশ্য ছিল শক্তির সাথে সম্পৃক্ততা বজায় রাখা, যিনি গোটাবিশ্ব নিয়ন্ত্রন করে চলছেন৷ ইঞ্জিল শরীফে অবশ্য তেমন প্রবণতা দেখা যায়, খোদার সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত জীবন যাপন করা, কেননা তিনি তাঁর অনুসারীদের প্রতিজ্ঞা করেছেন 'পাক-রুহ তোমাদের উপর আসলে পর তোমরা শক্তি পাবে, (প্রেরিত ১:৮) খোদা পাপীদের প্রত্যাখ্যান করেন না, বরং তিনি তাদের পাকছাপ করেন, মন্দ জগত থেকে আলাদা করেন এবং তাদের হৃদয়ে বাস করেন৷

আমাদের প্রভু মসিহ সর্বশক্তিমান, যার ওপর সমস্ত প্রাধিকার দত্ত হয়েছে, দত্ত হয়েছে বেহেশতের ও দুনিয়ার সকল ক্ষমতা৷ তাঁর অনন্তস্থায়ী ক্ষমতার কাছে আনবিক শক্তি তুচ্ছ মাত্র৷ তাঁর ক্ষমতার কোনো শেষ হবার নয়৷


০২.৫ - ইসলামের শিক্ষায় খোদার বর্ণনা

সর্বশক্তিমানের কাছে বশ্যতা শিক্ষা দেয় 'আল্লাহ হু আকবর' ধ্বনি উচ্চারণে যার অর্থ আল্লাহ হলেন সর্বশক্তিমান৷ এভাবে মুসলমানগণ চিন্তা করেন আল্লাহ সার্বিক সুন্দর ও মহাজ্ঞানি, আর তা সকলের চেয়ে৷ তাই ইসলামের শিক্ষায় আল্লাহ হলেন মহান, সর্বশক্তিধর, ধরাছোয়ার সম্পূর্ণ বাইরে, থাকেন দাস-দাসীদের থেকে দূরে৷ মানুষের চিন্তা জগত তাকে নিয়ে ভাবতেও পারে না৷ তিনি আমাদের নিয়ে ভাবেন৷ ইসলামে আল্লাহকে দেখানো হয়েছে এমন এক সত্তা; তাঁকে নিয়ে যতপ্রকার চিন্তা দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁর সবগুলোইগুলো ভুলে ভরা৷ মানুষ যতই যুক্তি করুক না কেন, কোনোভাবেই সর্বশক্তিমানের বিষয় বুঝতে পারে না৷ মুসলমানগণ কেবল খোদা বিষয়ে ভয়ে কাতর থাকে এবং নিজেদের লুটিয়ে দেয় ষষ্টাঙ্গে আল্লাহর পাদপ্রান্তে৷

সুফিবাদে অবশ্য আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকল্পে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে আসছে, তবুও মনুষ্যরচিত যোগসূত্র দিয়ে আল্লাহ পর্যন্ত পেঁৗছাতে হয়েছে ব্যর্থ৷ কোরানে অবশ্য আল্লার সাথে আত্মিয়তার সম্পর্ক স্থাপনে ঘোর নিষেধ রেখেছে৷ বেদুইন সম্প্রদায় অবশ্য বিশ্বাস করতো খোদার সাথে মানুষের আত্মিয়তার সম্পর্ক রয়েছে৷

ইসলামে আল্লাহকে দেখানো হয়েছে অদৃশ্য বা বাতেনী এবং মুসলমানদের সাথে তিনি কোনো চুক্তি বা নিয়মের দ্বারা সম্পর্ক স্থাপন করেন নি৷ আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যে মুহাম্মদ এমন কোনো মধ্যস্থতা করেন নি যার দ্বারা মানুষের সাথে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন৷ তিনি আদেশ করেছেন, সকলে তার বশ্যতা মেনে চলবে এবং উভয়ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র স্থাপনের সম্ভাবনা আদৌ নেই৷

মুসলমানগণ খোদার অস্তিত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করেন না৷ এ কারণেই তারা তাদের কৃত পাপের বিষয়ে ধারণা পায় না এবং খোদার করুনার বিষয়েও অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারে না৷ তারা যে এবাদত করে তা তাঁর রহমতে পাপের কবল থেকে তাদের মুক্ত করেছেন বলে শুকরিয়া ও গুনগান বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নয়, অথবা কেয়ামতের বিচারের ভয়াভহতার হাত থেকে অব্যাহতি দানের জন্য ধন্যবাদ নয়৷ বরং কৃতদাস যেমন ভয় ও সন্দেহ নিয়ে মনিবের পাদপ্রান্তে উবুর হয়ে ক্ষমাভিক্ষা যাচনা করে তদ্রুপ দূরের আল্লাহর কাছেও তারা চিত্তে পাপের জ্বালা নিয়ে সন্দেহ ভরা হৃদয়ে মিনতি প্রকাশ করে মাত্র৷ তাদেরকে শেখানো হয়েছে মুহাম্মদকে অনুসরণ করতে, কারণ ইসলাম অতিকায়রূপে প্রকাশ করেছে, যিনি অনুসারিদের ভয় প্রদর্শন করে, কখনোই পূতপবিত্র করেন না৷ তারা মুক্তিদাতাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে না, কেননা ইসলামের শিক্ষায় মুক্তিদাতার কোনো স্থান নেই যিনি তাদের মুক্ত করবেন, করবেন স্বাধীন৷ একজন মুসলমান যে পুরাতন নিয়মতান্ত্রিক প্রথাগত এবাদত পদ্ধতির কাছে বাধা পড়া, চাইলেই সে মুক্তিলাভ করতে পারে না৷

যা হোক, সত্যিকারের খোদা যিনি কিতাবুল মোকাদ্দাসের শিক্ষার আলোকে নিজেকে প্রকাশ করেছেন তিনি তার সুন্দর সৃষ্টি থেকে দুরে সরে থাকতে পারেন না৷ তিনি তাদের কাছে নেমে এসেছেন এবং নিজেই আদম সন্তানদের সাথে এক মধুর সম্পর্ক ও চুক্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন এ বলে, 'আমি তোমাদের প্রভু, তোমাদের খোদা'


০২.৬ - ৷ খোদার সাথে চুক্তি বা নিয়ম স্থাপন

'তোমার খোদা' এর মধ্যে সর্বনাম 'তোমার' শব্দটি হলো সম্বন্ধ পদ৷ আমরা তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারি যেমন আস্থা রাখে শিশু তার পিতার ওপর৷ আমাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি আমাদের কাছে ঝুকে নেমে আসেন, যেমন তিনি বলছেন, 'আমি তোমার, তুমি কি তওবা করবেনা, ফিরে আসবে না, সমর্পিত হবে না আমার কাছে চিরকালের জন্য?'

পুনঃপুনঃ আশা দিয়ে নিরাশ করার মতো এটি একটি খবর, 'দশ আজ্ঞা' দিয়ে খোদা ও মানুষের সাথে একটি নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ এ চুক্তিটি খোদা নিজেই মানুষের কাছে প্রস্তাব রেখেছেন৷ এর মধ্য দিয়ে খোদা আমাদের মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা প্রকাশ করেছেন এবং তার অবিচল প্রেমের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন৷ বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও প্রেমের আবেশে আমরা যেন তাঁর সার্বভৌমত্বে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করি৷

গুনাহগারদের সাথে তাঁর প্রস্তাবিত চুক্তিতে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন ক্ষমার বিষয়, নাজাতের বিষয়ে রক্ষাকবজ ও আশির্বাদের সম্বন্ধে৷ যদি খোদা আমাদের পক্ষে থাকেন, তবে আমাদের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াতে পারে? (রোমীয় ৮:৩১) তিনি বার বার নিশ্চয়তা ও সাহস দিয়ে ফিরছেন এ বলে, তিনি আমাদের সাথে সদাসর্বদা রয়েছেন এবং আমাদের দুর্বলতার মধ্যেই তিনি তাঁর কাজ করে থাকেন৷ মানুষের পাপ খোদার বিশ্বস্ততাকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে না৷ নিঃসন্দেহে পূতপবিত্র খোদা প্রত্যেকটি পাপের বিচার করবেন, তা যতই ক্ষুদে হোক না কেন, সকল পাপের বিচার হবে৷ তাঁর খাঁটি বিচারে প্রত্যেকটি পাপ দোষ বলে ধরা হবে, তা সত্ত্বেও তাঁর অনন্তকালীন মহব্বত মসিহের মধ্যে রয়েছে৷ মসিহ তাদের পাপ সদাসর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে চলছেন যারা খোদার চুক্তিতে আস্থা স্থাপন করেছে৷ মসিহ জগতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত পরিশোধকল্পে নিজের প্রাণ কোরবানি দিয়েছেন আর তার ফলেই ঐশি চুক্তি ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়েছে৷ সলিব হলো সেই চিহ্ন যার মাধ্যমে খোদার মহব্বতের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে৷


০২.৭ - খোদা হলেন আমাদের পিতা

মসিহের জন্মের সাথে সাথে খোদার থেকে মানুষের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটেছে৷ খোদা মানবদেহে মানবরূপে ধরাপৃষ্টে করেছেন আগমন, যার কারণে মানুষের দাসত্ত্বের জীবন শেষ হয়ে গেছে, সে আর ক্রীতদাস হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করবে না, মসিহ সকল প্রকার পাপের বাধন থেকে তাকে করেছে মুক্ত, মুক্ত করেছেন অভিশপ্ত শয়তানের শৃঙ্খল থেকে, মৃতু্য থেকে এমন কি কেয়ামতের বিচারের ভয়াবহতা থেকেও মুক্ত৷ মসিহের রক্ত ক্ষরিত হয়েছে আমাদের পাপের কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত পরিশোধের নিমিত্তে৷ যে কেউ মসিহের এ কোরবানিতে বিশ্বাস করে সে-ই পায় মুক্তি, হয়ে ওঠে স্নাতশুভ্র পূতপবিত্র, আল্লাহপারেক দত্তক পুত্রকন্যা রূপে৷ মসিহের মাধ্যমে খোদা আমাদের পিতার স্থানে বসেছেন, আইনানুগ ও রুহানি পিতা হয়েছেন৷ তিনি আমাদের অভয়বানি দিয়েছেন, কোনো কারণে মারাত্মক পাপ জীবনে সংগঠিত হলেও তিনি অকাতরে ক্ষমা করে দিবেন, কারণ তিনি বলেছেন, 'আমিই প্রভু তোমার পিতা'৷

সলিববিদ্ধ ও পুনরুত্থিত মসিহকে যিনি বিশ্বাস করেন, করেন অনুসরণ পিতা খোদা তাদের পাকরুহের শক্তিতে শক্তিমান করে তোলেন৷ নতুন জন্মপ্রাপ্ত মসিহে বিশ্বাসিগণ তাদের বেহেশতি পিতার জীবনাচরণ বহন করেন৷ হতাশার জিঞ্জিরে তারা আর আবদ্ধ নয়, এমন কি রুহানি মৃতু্যও আর তাদের ঘটবে না৷ মসিহের মধ্য দিয়ে পাকরুহকে তিনি আমাদের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন৷ তিনি আমাদের পরিণত করেছেন তার আরশে মাওলা অর্থাত্‍ খোদার ঘরে৷ যেখানে তিনি নিয়ত বসবাস করে থাকেন৷ তিনি আমাদের পিতা আর আমরা হলাম তাঁর সন্তান সন্তুতি৷ আমরা তাঁর মধ্যে আছি আর তিনি আমাদের মধ্যে আছেন৷ এ চুক্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের পরিবর্তে মসিহ সলিবে পাপের প্রায়শ্চিত্ত পরিশোধকল্পে আত্মকোরবানি দিয়েছেন বিধায়৷ তার পর প্রত্যেক বিশ্বাসি পিতা-খোদার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, লেনদেন, আদান-প্রদান অনুভব করে থাকেন৷ তার প্রার্থনা শুন্যে উড়িয়ে দেয়া কোনো মন্ত্রপাঠসম নয়৷ পরিবর্তে তার প্রার্থনা যেন খোদার সাথে ফোনে আলাপ করার মতো ঘটনা৷ আমাদের প্রার্থনা, ধন্যবাদ, পাপস্বীকার, বিনতি ও নিবেদনে থাকে ভরা৷ মনোযোগ দিয়ে আমাদের আকুতি শুনে থাকেন৷ তাঁর পিতৃত্বেও আমরা আমাদের আশ্রয় খুঁজে পাই৷ তিনি তার ধার্মিকতার পোশাকে আমাদের আবৃত করে রাখেন৷ মুসলমানদের মতো নয়, খাঁটি মসিহিগণ তাদের খোদার অবস্থান থেকে দূরে অবস্থানরত থাকেন না৷ তারা সর্বজাতীয় দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করে না, যেমন হিন্দুদের প্রার্থনা বহুদেবতাদের কাছে উচ্চারিত হয়৷ অথবা বৌদ্ধদের বিশালাকার প্রার্থনার আয়োজন অথচ সবই শূন্যেই বিলিন হয়ে যায়৷

মহব্বতের কারণে মসিহের অনুসারীদের খোদা নিজের সাথে যুক্ত করে নিয়েছেন, যেন তারা শতত তাঁর সাক্ষাতে বসবাস করতে পারে এবং ক্রমে ক্রমে পরিবর্তিত হয়ে ওঠে তাঁরই ঐশি জীবনে, তাঁরই সুরতে৷ আমাদের বেহেশতি পিতা আমাদের অনাথ অবস্থায় ত্যাগ করেন নাই, বরং তিনি আমাদের রক্ষা করেছেন, মুক্ত করেছেন, এবং নতুনরূপে গড়ে তুলছেন৷ তিনি আমাদের প্রতি প্রত্যয়োক্তি সহ দাবি করেছেন, 'তোমাদের বেহেশতি পিতা যেমন খাঁটি তোমরাও তদ্রুপ খাঁটি হও' (মথি ৫:৪৮)৷ দশ আজ্ঞার প্রধান এবং একমাত্র উদ্দেশ্য হলো পতিত জনগোষ্টি যেন পরিবর্তিত হয়ে খোদার সন্তান সন্ততিতে রূপান্তরিত হয়ে ওঠে৷ বাস্তবিক ক্ষেত্রে দশ আজ্ঞা হলো প্রতিরক্ষা বু্যহ যা খোদার রহমতে শয়তানের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে৷

হয়ত আপনি ভাবছেন মসিহের দেয়া শর্ত কারো পক্ষে পূর্ণ করা সম্ভব নয়৷ খোদা যতটা পবিত্র ততটা পবিত্র আমরা কি করে হতে পারি? অভিশপ্ত ইবলিশ কর্তৃক এদন উদ্যানে আদম হাওয়ার প্রতি ছুড়ে দেয়া দাবির পুনরুক্তি এ দাবিটি নয়, যেক্ষেত্রে ইবলিশ বলেছিল, 'তোমরা খোদার মতো হবে'? মানুষ নিজে নিজেকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, সে নিজের প্রচেষ্টায় পারে না ধার্মিক হতে৷ স্বধার্মিকতা কেবল শরিয়তের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে৷ সকল ধার্মিকতা অহমিকায় অন্ধ ও বিদ্রোহী করে ছাড়ে আর ঠেলে দেয় বিচারের কাঠগড়ায়৷ কিন্তু প্রকৃত পবিত্রতা হলো তাই যা বেহেশতি পিতা আমাদের মধ্যে থেকে অনবরত উত্‍পন্ন করে চলছেন৷ ধার্মিকতার পথে তিনি আমাদের পরিচালনা করে চলছেন৷ নিত্যদিন তিনি ডেকে বলছেন, হুশিয়ার করে দিচ্ছেন, অহংবোধ অস্বীকার করার জন্য আর আমাদের আত্মায় যোগান দিচ্ছেন অনন্ত শক্তি যার ফলে সর্বপ্রকার অপশক্তি রোধ করা সম্ভব হয়৷ তিনি শুনিয়ে যাচ্ছেন তাঁর কালাম অধ্যয়ন করতে এবং তদনুযায়ী জীবন যাপন করতে৷ তিনি তার প্রেম আমাদের দান করে চলছেন যার ফলে আমাদের স্বার্থপরতা পরিবর্তিত হয়ে অন্যের সেবার মনোভাবে পরিণত হয় এবং সেবা কাজে নিয়োজিত হতে পারি৷ আমাদের পিতা যে সকল রুহানি দান আমাদের দান করেন তা এতটাই দৃশ্যমান যা মুহাম্মদ নিজেও স্বীকার করেছেন এবং এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন, মসিহের অনুসারিগণ এক বিশেষ ধরণের ব্যক্তিত্ত্বের অধিকারি, 'তারা গর্বিত নয়, বরং তারা তাদের হৃদয়ে লাভ করেছেন মমতা, করুনা ও দয়া' (সুরা আলা মায়েদা ৫:৮২ এবং আল হাদিদ ৫৭:২২)৷


০২.৮ - সুসম্পন্ন নাজাত

খোদা চাচ্ছেন পাপের দাসত্ত্ব থেকে আমাদের মুক্তি হোক৷ দশ আজ্ঞার দ্বিতীয় বয়ানে তিনি আমাদের বলেছেন, আমরা আমাদের শক্তিতে পাপের দাসত্ত্ব থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারি না৷ খোদা তা করবেন আর বিশ্বাস পূর্ণ বাধ্যতার ফলে আমাদের জন্য তা হবে৷ মুসা নবীর মাধ্যমে মারাত্মক দাসত্ত্ব থেকে খোদা মনোনীত জাতিকে মুক্ত করেছেন, আর এক রুহানি চুক্তি স্থাপন করেছেন তাদের সাথে৷ তারা যে ধার্মিক জাতি ছিলেন, তাই বলে তিনি তাদের বরণ করেন নাই, কিন্তু তাঁর করুনারগুনে তাদের বাছাই করেছেন৷ তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, 'আমিই প্রভু, তোমাদের খোদা, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাদের মুক্ত করে এনেছেন, মুক্ত করেছেন দাসগৃহ থেকে৷'

জর্দান উপত্যকার অনুর্বর পশ্চিমা পাথুরে ভূমি থেকে ৩৬০০ বত্‍সর পূর্বে ইয়াকুবের পুত্রগণ জ্বালাময়ি ক্ষরা ও দুর্ভিক্ষের কবলে আক্রান্ত হয়ে দেশত্যাগ করেছিলেন৷ ক্ষুধার জ্বালায় তারা তাড়িত হয়েছিলেন, নীল নদের উর্ধরা উপত্যকায়, যার অবস্থান ছিল তাদের বাড়ি থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে৷ তথায় তারা স্বাচ্ছন্দ জীবন যাপন করছিলেন৷ নীল নদে প্রতি বত্‍সর প্লাবন হতো আর উক্ত প্লাবনের ফলে নদের দু'পাশ্বর্ের জমি পলি পেয়ে উর্বরা হতো৷ ইয়াকুবের বংশ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিলো যা মিশরীয় জাতির জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দেখা দিল৷ মিশর রাজ ফেরাউন হিব্রু কমর্ীদের দাসত্ত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করলেন এবং তাদের উপর চালাচ্ছিলেন অমানুষিক নির্যাতন৷ তাদের অনেকেই পিতৃপুরুষদের খোদার কথা মনে করলো এবং খোদার সাহায্য পাবার জন্য ক্রন্দন শুরু করে দিল যাতে দাসত্ত্বের কবল থেকে তাদের মুক্তি ঘটে৷ শুভদিনে তারা তাদের খোদার কথা ভুলে গিয়েছিল, যা হোক, দারিদ্র ও প্রয়োজনিয় চাহিদা তাদের ফিরিয়ে আনলো স্রষ্টার কাছে, মুক্তিদাতার কাছে৷ খোদা তখন তাদের কান্না শুনলেন এবং তাঁর মনোনিত দাস মুসা নবীকে তাদের কাছে প্রেরণ করলেন৷ খোদা এই মুসা নবীকে ফেরাউনের দরবারে বড় করেছেন এবং শিক্ষাদীক্ষা দিয়েছেন আর প্রান্তরে মরুভূমিতে কঠিন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন মুক্তির কাজ সমাপন করার মানসে৷ খোদা বনে আগুনের মধ্য দিয়ে মুসা নবীর সাথে দেখা দিলেন, বনে আগুন জ্বলছে, কিন্তু বন পুড়ছে না, কতুহলের বিষয়৷ খোদা মুসা নবীর কাছে নিজেকে প্রকাশ করে বললেন, 'আমি আছি' যার অর্থ দাঁড়ায় আমি যে আছি সেই আছি৷ আমি বদলে যাই না কিন্তু তোমার কাছে বিশ্বস্তই থাকবো৷ যখন তোমরা আমাকে গভীরভাবে জানতে আগ্রহী হবে তখন আমাকে জানতে পারবে (যিরিমিয়া ২৯:১৩)

ক্ষমতাধর ফেরাউনের কাছে খোদা মুসা নবীকে পাঠালেন এ বলে যেন নির্যাতনের কবল থেকে তিনি ইব্রানী দাসদের মুক্তি দান করেন৷ ফেরাউনকে মিশরের প্রভু বা দেবতা হিসেবে গণ্য করা হতো৷ কিন্তু নীল নদের উপত্যকার শাষণকর্তা ইব্রানিদের মতো সস্তা শ্রমিকদের বিদায় দিতে নারাজ ছিলেন৷ উত্তরোত্তর সে তার মন কঠিন করতে লাগলো ইব্রাহীমের বংশধর ইব্রানী জাতিকে দাস গৃহ থেকে মুক্তি দিতে ততক্ষণ পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানালো যতক্ষণে না তাদের মুক্তি দিতে খোদাই শক্তি তাকে বাধ্য করলো৷ খোদা মিশর রাজের উপর অভিশাপের মাত্রা বাড়িয়ে চললেন, বাড়িয়ে দিলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্বিপাক৷ তারা ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত হলেন, কিন্তু তা তাদের ধার্মিকতার বদৌলতে হলো না, তা হলো বিশ্বাসের বাধ্যতার ফলে৷ তাদের হাতে কোনো ধারালো অস্ত্রসস্ত্র ছিল না, রাত্রিকালে নিস্তার পর্বের মেষ কোরবানি দিয়েছেন এবং উক্ত কোরবানিকৃত মেষের রক্ত ছিল পাপের কাফফারা পরিশোধ এবং উক্ত রক্তে তাদের প্রতিরক্ষা ছিল মুক্তির ব্যবস্থা৷ প্রত্যেক পরিবার একটি করে মেষ কোরবানি দিতে আজ্ঞাপিত ছিল৷ কোরবানিকৃত মেষ তারা খাবে এবং খোদার শক্তিতে মুক্ত যাবে দাস্যগৃহ থেকে৷ লোহিত সাগর পার হওয়া এবং তাদের শত্রুদের পুরো ধ্বংস হওয়া ছিল মুক্তিলাভের বড় প্রমাণ৷ বর্তমানে কায়রো শহরে অবস্থিত মিশরীয় যাদুগরে ছত্রাকের মতো গজিয়ে ওঠা পিরামিড দেখা যায় যা লোহিত সাগর বক্ষের ডুবন্ত রাজাদের স্মরণার্থে গড়া৷ মুসলামানগণ মনে করে যুদ্ধে বিজয়লাভ হয় খোদার হস্তক্ষেপের ফলে৷

যা হোক মক্কাবাসী বাণিজ্য কাফেলার উপর বদর প্রান্তরে যে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল সেখানে খোদার কুদরত উপস্থিতি ছিল না, তবে তারা ছিল অস্ত্রসস্রে সুসজ্জিত থাকার ফলে৷ তাঁর অনুসারিরা, তাদের কাছে যা কিছুই ছিল সবকিছু ত্যাগ করেছিল৷ সন্দেহ নেই তারা তাদের শত্রুদের পরাভূত করতে পেরেছিল৷ মুসা নবী রুহানি ও কুদরতি সাহায্য ও মুক্তি বলতে কি বুঝাচ্ছেন, (তার ক্ষেত্রে এক ফোটাও রক্ত ক্ষরিত হয় নি) ইসলামে ধর্মযুদ্ধ (জিহাদ) বলতে প্রমান হয় যে ক্ষেত্রে সকলেই বাধ্য ধর্মযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্য৷ ইসলামে ন্যায়বান প্রমাণ প্রতিপাদ্য বুঝাতে 'তুমি তাদের হত্যা করোনি, কিন্তু আল্লাহ নিজেই তাদের হত্যা করেছে৷ তোমরা বর্ষা নিক্ষেপ করো নি কিন্তু আল্লাহই তা নিক্ষেপ করেছেন৷ (সুরাহ আল আনফাল ৮:১৭)

ইসরায়েল জাতিকে কুদরতিভাবে মিশরের দাসগৃহ থেকে মুক্ত করায় পরে তাদেরকে প্রান্তরে ভিষণ গরম ও শুষ্ক ভুমির মধ্যদিয়ে পরিচালনা কররেন যা ছিল তাদেরকে প্রস্তুত করার পর্ব, এবং তাদের জন্য ভোজের ব্যবস্থা৷ তিনি চেয়েছিলেন তাদের সাথে ঐশি চুক্তি চুড়ান্ত করতে, যার ফলে তারা পূতপবিত্র এবং জগতের নোংরামি থেকে আলাদা হয়ে কেবল খোদার সাথে যুক্ত থাকে৷ তিনি তাদেরকে ইমামের জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যারা খোদার সেবায় থাকবে নিয়ত ব্যস্ত৷ তারা কেবল হারানো সন্তানদের খোদার সাথে যুক্ত করার কাজে হয়েছে নিয়োজিত৷ পুস্তকের হৃদয় বলতে 'দশ আজ্ঞা'ই বুঝা যায়, এবং খোদার সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই 'দশ আজ্ঞা' যা দুটি প্রস্তর ফলকে রয়েছে লিপিবদ্ধ খোদার আইন বা শরিয়ত যা সাক্ষ সিন্দুকে রাখা হয়েছিল৷


০২.৯ - নতুন নিয়ম অর্থাত্‍ ইঞ্জিল শরীফে নাজাতের আর দশ আজ্ঞা মুল বিষয়

খোদা ৩৩০০ বত্‍সর পূর্বে ইয়াকুবের সন্তানদের যে বিজয় দিয়েছেন তা নিয়ে মসিহের অর্জিত নাজাতের সাথে সারসংক্ষেপ করা হলে যা পাওয়া যায় তা হলো, 'আমিই প্রভু তোমাদের খোদা ও পিতা, অনন্তকালের জন্য আমি তোমাদের নাজাত করেছি'৷

মসিহ জগতে আবিভর্ূত হয়েছেন সকল গুনাহগারদের পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য, তিনি হলেন খোদার মেষ যা মানুষের বিকল্প হিসেবে দেয়া হয়েছে কোরবানি, তাই আমরা সকল জাতিগোষ্টির কাছে ঘোষণা দিচ্ছি যে মসিহ হলেন সকলের নাজাতদাতা৷ মসিহ সলিবে কোরবানির দ্বারা পাপের শৃঙ্খল ভেঙ্গে দিয়েছেন, পরাভূত করেছেন অভিশপ্ত শয়তানকে আর মুক্ত করেছে বিশ্বের সকল গুনাহগাদের৷ আমাদের পক্ষে তিনি পাপের জন্য শাস্তিভোগ করেছেন যার ফলে খোদার ক্রোধ হয়েছে বিদূরিত, হয়েছি আমরা মুক্তপাপ, বেগুনাহ৷ খোদার রহমতে বিশ্বাস স্থাপনের ফলে প্রত্যেক গুনাহগার ব্যক্তি লাভ করে অপ্রত্যাশিত নাজাত, যা মানুষের পক্ষে অর্জন করা সম্পূর্ণ অসম্ভব৷ আজ আমাদের কেবল ধন্যবাদ দেয়া ছাড়া আর কি ই বা তাঁকে দেবার আছে৷

প্রত্যেক মানুষের জন্যই খোদর তৈরি নাজাত অপেক্ষমান, কেবল বিশ্বাস নিয়ে হাজির হতে হবে মসিহের কাছে৷ অস্ত্র ছাড়াই এ বিজয় ও নাজাত লব্ধ হয়েছে৷ সত্যিকারের পূতপবিত্র রক্ত ক্ষরিত হয়েছে তবে এ রক্ত পরাজিত সৈনিকের রক্ত নয় বরং খোদার একমাত্র পবিত্র পুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের রক্ত, যিনি আমাদের মুক্তির জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে দিয়েছেন কোরবানী৷

দশ আজ্ঞা পালনের জন্য খোদা আমাদের নাজাত করেন নি, অথবা দশ আজ্ঞা পালনের লক্ষ্যে তা দেওয়া হয় নি৷ বরং উক্ত আজ্ঞা সমুহ আমাদের শিক্ষা দান করে৷ যিনি পূতপবিত্র নাজাতপ্রাপ্ত তিনি কি করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বিনামূল্যে লব্ধ এ নাজাতের জন্য৷ যে ব্যক্তি নিজেকে যোগ্য মনে করে সে পাপ, শয়তানের ক্ষমতা, মৃতু্য ও খোদার গজব থেকে মুক্ত করার ক্ষমতা রাখে, সে নিজের শক্তি ও প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ ভ্রান্ত পথের পথিক৷ আসলে উত্তরোত্তর সে নিজেকে পাপের কবলে কবলিত করে চলছে৷ দশ আজ্ঞা আমাদের প্রেরণা যোগায় অনুতপ্ত হতে এবং ইমান স্থাপনে বাধ্য করে, বিনম্র করে এবং আমাদের উল্লসিত করে যে আমাদের নাজাত ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে৷ মুসা নবীর নিয়ম-কানুনের অর্থাত্‍ শরিয়তের পূর্ণতা হয়েছে বলে আমরা ধন্যবাদ দিতে পারি কারণ মসিহ তা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন৷ মসিহ ও পাকরূহের উপস্থিতি ও শক্তিতে তা হয়েছে সাধিত৷ খোদা কাওকে দোষি প্রমাণ করতে চান না, চান না অভিশাপ দিতে, অথবা ভারি বোঝার মতো দশ আজ্ঞা আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে যাতে বোঝার ভারে নু্যব্জু হয়ে পড়ি৷ নিশ্চয়ই নয়! 'দশ হুকুম' প্রকাশ পাবার বহু পূর্বেই মাবুদ আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন৷ নাজাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনুতাপের পর্যায়ে পৌছে দেবার জন্য এবং তাদের সকল বিরোধিতা বাধ্যতায় পরিণত করার জন্য পাকরূহের হাতে তুলে দিচ্ছেন যেন তিনি ভদ্র ও মার্জিতভাবে পরিচালনা করে তুলছেন৷ শরিয়তের উদ্দেশ্য হলো আমরা যাতে করে পিতা খোদার সাথে সখ্যতা ও সহভাগিতা লাভ করতে পারি, কোনো অবস্থাতেই কেয়ামতের বিচারে ধ্বংসা হয়ে না যাই৷

'দশ হুকুম' আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবো যদি আমাদের কখনো ক্রীতদাস হিসেবে অমানবীয় কঠোর পরিশ্রম করতে হতো৷ ক্রীতদাসের স্বাস্থ্য ভালো থাক বা খারাপ থাক, তাদের মনের অবস্থা যাই থাক না কেন, যুবা বা বৃদ্ধ নিরুপায়, কঠোর শ্রম দিতে বাধ্য৷ অসহনীয় পরিবেশে ক্রীতদাসের কঠোর অমানবীয় শ্রম দিয়ে যেতে হয়, দিতে বাধ্য৷ ক্রীতদাস হিসেবে আমরা জীর্ণ হয়ে যেতাম, আমাদের যত্ন বা খোঁজ নেবার কেউ থাকতো না৷

হীনাবস্থা ও যাতনার কবল থেকে পিতা খোদা তাঁর সন্তানদের মুক্ত করেছেন৷ এ কারণে 'দশ হুকুম' বা 'দশ শরিয়ত' আমাদের কাছে নির্দেশক পুস্তিকা যা নাজাত প্রাপ্ত জীবনে শান্ত, ভদ্রতা ও ইমানদারিতে আমরা জীবন যাপন করতে পারি৷ নাজাতপ্রাপ্ত জীবনে বহু ধরণের প্রলোভন দেখা দেয়৷ খোদার সাহায্য ছাড়া জীবন পথে চলতে গিয়ে দ্রুত আক্রান্ত ও বন্দি ক্রীতদাসে পরিণত হয়ে পড়বেন৷ আমাদের হৃদয়গত চাওয়া পাওয়া আমাদের পাপের হাতে বন্দি করে তোলে৷ সর্বোপরি খোদা তাঁর নিজের সুরতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন৷ খোদার উপস্থিতি ব্যতিত মানুষ পবিত্র জীবন যাপন করতে ব্যর্থ৷ খোদার উপস্থিতি ব্যতিত প্রকৃত স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই৷

কেউ যখন পাপে পড়ে, পাপময় জীবন যাপন করে তার অর্থ সে পাপের গোলাম৷ নেশাজাতীয় দ্রব্য, মাংসিক কামনা বাসনা, চৈর্য প্রবৃত্তি, অলসতা, ধর্ষণ এবং সর্বপ্রকার মন্দ স্বভাব তাকে বন্দি করে রাখে৷ কেউবা অতি সুক্ষ ও তীব্র যাতনায় যন্ত্রকাতর, অদৃশ্য বন্দিদশা যেমন মাদকাসক্তি, ধুমপান, নেশাখোরী, মিথ্যাবলার অভ্যাস এবং তা নিয়মিতভাবে ভবিষ্যদ্বানী ও মন্দ আত্মার বিষয় নয়৷ শয়তান তাদের মনকে নিয়ে খেলছে৷ মসিহ সুযোগ পেলেই তাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দান করে থাকেন এবং খোদার পক্ষে মুক্ত চিন্তার সন্তান হিসেবে কাজ করার সুেেযাগ করে দেন৷ মসিহ হলেন প্রকৃত বিজয়ী নাজাতকারী প্রভু, বিজ্ঞ চিকিত্‍সক, ভালো রাখাল, এবং বিশ্বস্ত বন্ধু৷ সাহায্য ও পরামর্শ ছাড়া কেউই তাঁর কাছে আসবে না৷

খোদার করুনায় যাদের নাজাত প্রদান করা হয়েছে তাদের জন্য 'দশ আজ্ঞা' রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে৷ খোদা তাদের জন্য পিতার ভুমিকা পালন করেন, মসহি নাজাতদাতা এবং পাকরূহ হলেন স্বান্ত্বনাদানারী বন্ধু৷ তারা বুঝতে পেরেছেন, পিতা খোদা, পুত্র এবং পাকরূহ একই খোদা৷ তারা নাজাতের প্রকৃত তাত্‍পর্য বুঝতে পেরেছেন যা হলো মসিহের মধ্য দিয়ে নাজাত পেতে হবে এবং সে কারণে তারা কৃতজ্ঞতা ও শান্তি প্রকাশ করে থাকেন৷ সন্দেহ নেই, 'দশ আজ্ঞা' হলো মানুষের জন্য খোদার দিক-নির্দেশনা, নাজাত প্রাপ্তদের উষড় মরু সম হৃদয়ে আনন্দের গান সৃষ্টি করে (যবুর ১১৯:৫৪)৷

www.Waters-of-Life.net

Page last modified on September 25, 2013, at 07:52 AM | powered by PmWiki (pmwiki-2.2.109)